সীমান্ত কণ্ঠ:: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সকাল সোয়া ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, “আম্মা আর নেই।” একই সঙ্গে বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ ও দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, ফজরের নামাজের পরপরই তিনি ইন্তেকাল করেন। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়া হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে তাঁর জন্ম। দেশভাগের পর তাঁর পরিবার তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়; তাদের আদি নিবাস ফেনী। দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা শেষে ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দায়িত্বকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ও নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়ার শাহাদাতের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের নেতৃত্বে উঠে আসেন—১৯৮৩ সালে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া একাধিক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনো কোনো সংসদীয় আসনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে পাঁচটি পৃথক আসন থেকে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন।
দেশের রাজনীতিতে তাঁর মৃত্যু একটি যুগের অবসান। শোকাহত দেশবাসী আজ গভীর শ্রদ্ধা ও দোয়ার সঙ্গে স্মরণ করছে এই প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ককে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশক আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম
সম্পাদক: মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী
ইমেইল: theweeklysimanthokantho@gmail.com,
সম্পাদকীয় কার্যালয়: জাবা কমপ্লেক্স (নীচতলা) বালিকা বিদ্যালয় রোড, ছাতক সুনামগঞ্জ।
মোবাইল : ০১৭১৬ ৯০০১৭৩, ০১৭১১০৩৯৭৮৮
Copyright © 2026 সীমান্ত কণ্ঠ. All rights reserved.