সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেহের নিগার তনু’কে প্রত্যাহার করার দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত এই আবেদন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিদ হাসনা শান্ত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদলি আদেশের পরও স্বপদে বহাল রয়েছেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেহের নিগার তনু। গত নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ সিদ্দিকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলী করেন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু’কে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বদলি করা হয়। কিন্তু বদলী আদেশের ৬ মাস পার হলেও এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন এই কর্মকর্তা।

৫ ই আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর তার নিয়োগকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু’কে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বদলি করা হলে স্বৈরাচারের দোসর হওয়ায় নেহের নিগার তনুকে বাহুবল এলাকাবাসী প্রতিহত করার ঘোষণাও দেয়। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন পত্রিকায় এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ ও প্রকাশিত হয়। তারপর ইউএনও নেহের নিগার তনু স্বপদে বহাল থাকায় দোয়ারাবাজারে বদলী হওয়া বিয়ানীবাজারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী শামিম যোগদান করেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায়।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডি, ভিজিডি, ভিজিএফ, পিআইসি ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম চলে তারই ইশারাতে। দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ চলেন ইউএনও’র ছোট ভাই পরিচয়ে। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইউএনও ও এলজিইডি কর্মকর্তা একই গাড়িতে সবসময় চলাফেরা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেহের নিগার তনু বলেছেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে আমার কোন তাড়া নেই। যার যা ইচ্ছে লেখালেখি করুক আমার কিছুই যায় আসে না।’
মন্তব্য করুন