সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলছে। প্রথম ধাপে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ২২৩ জন শিক্ষার্থী। তিন ধাপে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিবেন ৪ হাজার শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। নতুন আরেক ব্যাচ যুক্ত হবে। বলা যায় ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয় স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে। যা হাওরবাসীর জন্য অসাধারণ একটি উন্নয়ন।
মতের পার্থক্য থাকলেও এক্ষেত্রে ধন্যবাদ জানাতে হয় সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এম মান্নান সাহেবকে। অনেকেই মনে করবেন, আমি কি করে মন্ত্রী মান্নান সাহেবকে ধন্যবাদ জানাই! এটি স্পষ্ট আমি মান্নান সাহেবে উন্নয়নের বিপক্ষে নই। তবে তাঁর চেলাচামুন্ডা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিপক্ষে সব সময় অনড় রয়েছি।
যাইহোক, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাস্পাস নির্মাণের স্থান নিয়ে সম্প্রতি সরব আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে পক্ষ বিপক্ষে আওয়াজ উঠছে। বলাযায়,বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আন্দোলন চলছে। যা হয়তো আরও দূর গড়াবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প নিয়ে কিছু অবজারভেশন শেয়ার করছি। আপনার মতামত কোন দিকে যাবে সেটি আপনার সিদ্ধান্ত।
প্রথম জানতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে। যতদূর জানি বিশ্বিবদ্যালয় প্রকল্পের ৯৮ ভাগ কাজ সম্পন্ন। এখন কেবল বাস্তবায়নের পালা। অর্থাৎ অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাকি।
একটি প্রকল্প হুটহাট করে হয় না। তাও বিশ্ববিদ্যালয়! এটি সংসদে আইন করে করতে হয়। একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পৃথক আইন রয়েছে। যা লিপিবদ্ধ করা হয়। কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে। কোথায় কোন ক্ষমতা প্রয়োগ হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে তা এ টু জেড লিখা রয়েছে এই আইনে।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে গত সরকারের আমলে। প্রকল্প প্রস্তুত করতে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি টাকা। ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণ, মাটি পরীক্ষা(৫০ টি স্থানে মাটি পরীক্ষা হয়েছে) কোথায় কতটি ভবন হবে, কোথায় রাস্তা হবে, পুকুর কোথায় থাকবে? ড্রেনেজ ব্যবস্থা কি হবে? ট্রাফিক ব্যবস্থা, সব ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। এনিয়ে গবেষণা করে অনেকগুলো প্লানিং বই প্রস্তুত করা হয়েছে। এর জন্য সময় ব্যয় হয়েছে দেড় থেকে দুই বছর।
স্থান পরিবর্তন করতে হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। ফের ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রয়োজন। বরাদ্দ প্রয়োজন। সময় সাপেক্ষ। যা বর্তমান সরকারের আমলে সম্ভব হবে না।
আশঙ্কা ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের এই মতানৈক্যের কারনে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে পারে। কেননা নির্ভরযোগ্য সূত্র হচ্ছে, সরকার কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অসম্পূর্ণ এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলের সাথে যুক্ত করে দিতে পারেন। আমরা যদি এভাবে টানা হেছড়া করি তাহলে আমাদের প্রতিষ্ঠান হাত ছাড়া হতে পারে। আর প্রকল্প বাতিল করতে সরকারের উপলক্ষ সৃষ্টি হতে পারে। যা আমাদের জন্য সুখকর নয়।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে না কথা উঠতেছে। বাস্তবতা হচ্ছে বর্তমান ভিসি নিয়োগ হয়েছে জুলাই বিপ্লবের অনেক পর ডিসেম্বর মাসে। তিনি নতুন কোনো নিয়োগ কার্যক্রম করেননি। তিনি কোনো প্রকল্প প্রস্তুত করেননি? এক্ষেত্রের দুর্নীতির প্রশ্ন হয় কি করে৷ মন্ত্রীর বাড়িতে অস্থায়ি ছাত্রীনিবাসর বিনা ভাড়ায় থাকছেন ছাত্রীরা। সম্প্রতি এই ছাত্রীনিবাস স্থানান্তর করতে নতুন আবাসন খোঁজছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাহলে যেখানে ছাত্রীনিবাস ভাড়া হয়নি সেখা দুর্নীতি হয় কি করে?
শেষ কথা, বিশ্ববিদ্যালয় যেখানেই হোক, নাম কিন্তু সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাস্পাস শহরে বাহিরে হওয়ার নজির রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার অদূরে হাটহাজারী উপজেলায় অবস্থিত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নিয়ে বিতর্ক না করে নতুন নতুন প্রকল্প শহরের আশেপাশে গড়ে তুলতে আওয়াজ তুলি। মতানৈক্য নয় উন্নয়নের প্রশ্নে আমার এক ও অভিন্ন। দ্রুতই বিশ্ব বিদ্যালয় স্থাপন হোক এমন দাবি হোক আমাদের।
বিশ্লেষণ, শহীদনূর আহমেদ সাংবাদিক
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশক আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম
সম্পাদক: মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী
ইমেইল: theweeklysimanthokantho@gmail.com,
সম্পাদকীয় কার্যালয়: জাবা কমপ্লেক্স (নীচতলা) বালিকা বিদ্যালয় রোড, ছাতক সুনামগঞ্জ।
মোবাইল : ০১৭১৬ ৯০০১৭৩, ০১৭১১০৩৯৭৮৮
Copyright © 2026 সীমান্ত কণ্ঠ. All rights reserved.