
বিশেষ প্রতিবেদক।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘ দুই দশক পর এই আসনে ‘ধানের শীষের’ বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফেরার লড়াইয়ে নেমেছে বিএনপি। ২০০৬ সালের পর থেকে হারানো এই দুর্গ পুনরুদ্ধারে এবার ভিন্ন কৌশল আর সুসংগঠিত শক্তিতে মাঠে নেমেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।
নির্বাচনী মাঠের প্রাথমিক সমীকরণে কলিম উদ্দিন মিলনের প্রধান বাধা ছিলেন দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী। তবে সেই সংকট কাটিয়ে এখন ঐক্যবদ্ধ বিএনপি। দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মী এখন একাট্টা হয়ে মিলনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটে যাওয়ায় নির্বাচনী মাঠ এখন অনেকটাই ধানের শীষের অনুকূলে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাধারণ ভোটারদের মতে, কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ‘ক্লিন ইমেজ’ বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বিতর্কহীন থাকা এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের আশায় তরুণ প্রজন্ম মিলনের দিকে ঝুঁকছে। কৃষক, শ্রমিক এবং প্রবাসী পরিবারগুলোর কাছে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
মাঠ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ। অনেকের মতে, ‘অনেক নির্বাচনে ভোট দিতে পারিনি, এবার শান্তিতে ধানের শীষে ভোট দিতে চাই। মনে হচ্ছে ধানের শীষের সময় এসেছে।’
মাঠে বর্তমানে বিএনপি ছাড়া মূলত জামায়াত প্রার্থীর প্রচারণাই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াতের নারী কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্যণীয়। তবে সাধারণ ভোটারদের চোখে লড়াইটা মোটেও সমানে-সমান নয়।
বিএনপির তৃণমূল নেতা কর্মীরা মনে করছেন, এখানে কোনো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা নেই। মিলনই সেরা। তিনি নির্বাচিত হলে মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আর তিনি মন্ত্রী হওয়া মানেই ছাতক ও দোয়ারাবাজারের ব্যাপক উন্নয়ন।
তিনবার সংসদ সদস্য থাকার কারণে এলাকার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলো তার নখদর্পণে।
ভোটারদের বড় একটি অংশ বিশ্বাস করেন, কলিম উদ্দিন মিলন বিজয়ী হয়ে সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলে এলাকার থমকে যাওয়া উন্নয়ন আবার গতি পাবে।
অন্য প্রার্থীদের প্রচারণায় দৃশ্যত শিথিলতা এবং বিএনপির সাংগঠনিক শক্ত অবস্থান মিলনকে সুবিধাজনক জায়গায় রেখেছে।
দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষা শেষে ছাতক-দোয়ারাবাসীর রায়ে ধানের শীষের প্রার্থী কি পারবেন হারানো গৌরব ফিরে পেতে? উত্তরের জন্য এখন কেবল ভোটের দিনের অপেক্ষা। তবে বর্তমান জনস্রোত বলছে, পরিবর্তনের হাওয়া বইছে সীমান্তঘেঁষা এই জনপদে।