মুহিবুর রহমান উসমান: রাজনীতি যদি হয় জনগণের সেবার মাধ্যম, তাহলে নেতৃত্ব মানে হওয়া উচিত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও স্বচ্ছতার মূর্ত প্রতীক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের সমাজে রাজনীতি অনেক সময়ই হয়ে ওঠে ক্ষমতা ও লোভের প্রতিযোগিতা। এই বাস্তবতায়, যে কজন তরুণ নেতা রাজনীতিকে আদর্শ ও মানবিকতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, তাঁদের অন্যতম মাওলানা সাদিক সালীম—একজন আলেম, সংগঠক, বক্তা ও সমাজদ্রষ্টা।
আদর্শিক শেকড় ও শিক্ষাজীবন
১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালিউড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাদিক সালীম। পারিবারিক পরিমণ্ডলে ধর্মীয় শিক্ষা ও জনসেবার যে ধারা প্রবাহিত ছিল, তা-ই ভবিষ্যতের নেতার ভিত নির্মাণ করে দেয়। পিতা হাজী ইর্শাদ আলী ও দাদা হাজী কাছিদ আলী ছিলেন সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ।
শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের জামেয়া ইসলামিয়া কওমিয়া বালিউড়া মাদ্রাসায়। এরপর হিফজ সম্পন্ন করেন সিলেটের জামেয়া নূরিয়া ভার্থখলায় এবং দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) শেষ করেন জামেয়া মাদানিয়া কাজিরবাজার থেকে। এখানেই তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশের প্রথিতযশা আলেম প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান (রহ.)-এর সান্নিধ্যে এবং পরে কাজের সূত্রে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে শায়খুল হাদীস আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) ও জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর মতো মনীষীদের সঙ্গে।
আন্দোলনের মাঠ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে
সাদিক সালীমের রাজনৈতিক চেতনা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০১৩ সালে ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর আন্দোলনে তিনি সিলেট অঞ্চল থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ঢাকায় যান, যেখানে তার সাহস, সংগঠকসুলভ বুদ্ধিমত্তা ও ধর্মপ্রাণ নেতৃত্ব গুণ উন্মোচিত হয়।
তিনি ইসলামি ছাত্র মজলিসে যুক্ত হয়ে নেতৃত্বের ধাপে ধাপে অগ্রসর হন:
২০১৫: সিলেট মহানগর সেক্রেটারি (দুই মেয়াদে)
২০১৭: ঢাকা মহানগর সভাপতি
২০১৮: কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক
এই সময়টাতে তিনি ছিলেন কওমী-আলিয়া-কলেজ এই ত্রিমাত্রিক ছাত্র সমাজের সংযোগকারী কণ্ঠস্বর, সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন একটি দৃঢ় নেতৃত্বের ভিত্তি।
উদ্যোক্তা, সংগঠক ও চিন্তানায়ক
রাজনীতির পাশাপাশি সাদিক সালীমের ভিন্নমাত্রিক পরিচয় হলো একজন উদ্যোগপ্রিয় তরুণ। ২০১৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “খাজা ইন্টারন্যাশনাল”—যা এখন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয়। একই সঙ্গে যুক্ত হন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহযোগী সংগঠন খেলাফত শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে।
এই বহুমাত্রিকতাই তাকে গড়ে তোলে একজন সংগঠক, উদ্যোক্তা এবং আদর্শনির্ভর সমাজপ্রতিভা হিসেবে।
বক্তৃতা ও বোধের ভাষায় তরুণ সমাজ
সাদিক সালীম কেবল সংগঠনের মুখপাত্র নন, বরং একজন মননশীল বক্তা ও লেখকও। তাঁর ভাষণে যুক্তি, আবেগ ও প্রজ্ঞার একটি অপূর্ব মিশ্রণ দেখা যায়। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতি হবে নৈতিকতার চর্চার ক্ষেত্র—যেখানে নাগরিকের অধিকার, দায়িত্ব ও মর্যাদা একসূত্রে গাঁথা থাকবে।
তাঁর বক্তৃতায় বারবার উঠে আসে ‘শোষণমুক্ত, আদর্শনির্ভর, জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রের’ প্রত্যয়।
ছাতক-দোয়ারাবাজার: স্বপ্নের জনপদ
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এক জনপদ—ছাতক-দোয়ারা। অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যা দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত। মাওলানা সাদিক সালীম এ আসনকে নতুনভাবে নির্মাণ করতে চান। তাঁর অঙ্গীকার—
টেকসই ও আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ধর্মীয় শিক্ষার সম্প্রসারণ
মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া
যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান
দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
এই প্রতিশ্রুতিগুলোর মূলে রয়েছে উন্নয়ন ও মানবিকতার এক বাস্তবভিত্তিক সমন্বয়চিন্তা।
আন্তর্জাতিক পরিসরে অভিজ্ঞতা
তিনি অংশ নিয়েছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষা সফর ও লিডারশিপ কনফারেন্সে, যেখানে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তরুণ আলেম ও চিন্তাশীল মুসলিম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে। এই গ্লোবাল অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনকে দিয়েছে সময়োপযোগী ও বহুমাত্রিক রূপ।
মাওলানা সাদিক সালীম কেবল একজন তরুণ রাজনীতিক নন—তিনি হচ্ছেন এক নবজাগরণের প্রতীক, যিনি ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রের সংযোগসূত্রে দাঁড়িয়ে আছেন আদর্শ, ন্যায় ও নেতৃত্বের নির্ভরযোগ্য মানচিত্র হয়ে। তাঁর যাত্রা রাজনীতির এক আলোকিত শাখা—যেখানে নেতৃত্ব মানে সেবা, ক্ষমতা নয়; যেখানে রাজনীতি মানে মানবতা, লোভ নয়।
মন্তব্য করুন