সাহিত্য ডেস্ক:: বাংলা কবিতার এক অনন্য কণ্ঠস্বর মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী। সুনামগঞ্জের হাওরভূমি থেকে উঠে আসা এই কবি তাঁর কাব্যে তুলে ধরেছেন প্রেম, সময়চেতনা, লোকজ জীবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সংকট।
হেলালীর কবিতায় প্রকৃতি শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড নয়, বরং একটি জীবন্ত চরিত্র। নদী, গোধূলি, কুয়াশা কিংবা মুখোশ—সবকিছু হয়ে ওঠে গভীর প্রতীকের বাহক। তাঁর কাব্য-লাইনে যেমন পাওয়া যায় সময়ের চক্রঘূর্ণি:
বারবার ফিরবে চব্বিশের জুলাই…
এই পঙক্তিতে ফুটে ওঠে স্মৃতি, ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি। তাঁর কবিতায় প্রেম নিছক আবেগ নয়, বরং এক ধরনের বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা, যা সামাজিক বাঁধা অতিক্রম করে। পাশাপাশি, QR কোড, ডিজিটাল নির্জনতা কিংবা “Pixel-Rāga”-র মতো প্রতীক হেলালীর কবিতায় এনে দেয় নতুন যুগের চেতনা।
শব্দচয়ন, অনুপ্রাস ও ছন্দে তিনি সৃষ্টি করেছেন আবৃত্তি-উপযোগী এক ভাষাবিশ্ব, যা পাঠক ও শ্রোতার মনে গেঁথে থাকে দীর্ঘদিন।
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী সময়, প্রেম ও প্রতিবাদকে কবিতার রূপকলে বেঁধে তোলেন এক অনন্য মাত্রায়।
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী, জন্ম ও বেড়ে ওঠা সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানিয়া গ্রামে। যৌবনে প্রান্তিক সাংবাদিকতা জড়িয়ে পড়েন। এখন কবিতা ঘিরেই যাপনকাল। সম্পাদনা: শিল্প সাহিত্যের ছোটোকাগজ 'বাঁশতলা'। পাঠকের উদ্দেশ্য তাঁর তিনটি কবিতা পাত্রস্থ করা হলো-
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী এর কবিতা
চোখের আগুনে পাথর
চোখ—নীল আগুন, গলে যায় পাথর
ঠোঁটে কাঁপে ভেজা ছায়া
ঝরে পড়ে লাল পাখির পালক
স্পর্শ—
বাঁশির ছিদ্রে আটকে থাকা নিঃশব্দ হাওয়া
অক্ষরের ভাঁজে রোদ শুকোলে
নদীর গন্ধে জেগে ওঠে চাঁদমনি ফুল
পাতার নিচে জমে কান্না
রং বদলায়
ঝরা সন্ধ্যায় আগুনরঙা আলপনা...
শব্দ ফুরালে
ছায়ারাই ভাষা হয়ে দাঁড়ায়।
ধানসময়ের প্রতীক্ষা
ধুলো মাখা হাওরে
গরুর গাড়ি থামে না আর
চাকা গিয়েছে পঁচে
হেঁটে চলে হালের গরু একা
বোতামে নামে ট্রাক্টর
চাষা নেই, লাঙল নেই
শুধু বৃষ্টির দিকে
চেয়ে থাকে আকাশ
মাঠের মাথায়
চোখ বুজে দাঁড়িয়ে আছে
এক বটগাছ—
ডালে ডালে কাটা ঘুড়ি
কেউ বাঁশি বাজায় না
শুধু হাওয়ার মাঝে শিস
পথের পাশে মাটির চুলায়
ধোঁয়া ওঠে না
ভাত নেই হাঁড়িতে
তবুও ধানের গন্ধে
ঘুরে বেড়ায় ক্ষুধা
দুয়ারে দোলে
লাল পাড়ের শাড়ি
ভোর হয় না
কেবল রাঙা অস্ত ডাকে
আলো ছুঁয়ে আসে না উঠোন
আঁধারে মুখ ঢাকে
বুড়ি আয়না;
ভাসে না মুখ
শুধু চেনা গর্জন ঘুম পাড়ায়
কান্নার ভিতরেই
ঘুম ভাঙে বীজে—
জল কাঁপায় শিকড়
দখিণা বাতাস বুঝে যায়
আসছে ধানসময়...।
রক্তে লেখা প্রেম
আমার ইচ্ছে ছিল
তোমার চোখে আঁকি পতাকা
যেখানে সূর্য ওঠে
মেহনতি মানুষের ঘামে
তোমার হাত ধরে লিখি
প্রজন্মের নতুন ইতিহাস
ভালোবাসা হবে মিছিল
ঠোঁট নয়
কণ্ঠ জ্বলে উঠবে আগুনে
তোমার বুক হবে জমিন
যেখানে জন্ম নেয়
প্রতিবাদের সন্তান
তোমার কপালের লালটিপ
শহীদের রক্তচিহ্ন হোক
তোমার চুলে উড়ে যাক
একাত্তরের অসমাপ্ত স্বপ্ন
আমি চেয়েছিলাম
তুমি হও আহ্বান
যাতে জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর
কবর ফুঁড়ে ফিরে আসে
বিপ্লবীদের পুরনো শ্লোগান
তুমি যদি ভালোবাসতে
আমি প্লেকার্ড হাতে বলতামঃ
ভালোবাসা মানে—
অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে যাওয়া
বুকের জমিনে
সাম্যের দাবী তোলা!
এসো...
সবুজ বেনারসি পরে
কপালে রক্তলাল টিপ,
চোখে আগুন জ্বালিয়ে
চলো, নামি মিছিলে
ভালোবাসা দিয়েই জ্বালিয়ে দিই
স্বাধীনতার অসমাপ্ত মশাল...
যারা প্রেমকে মসনদ বানায়
তাদের বিরুদ্ধে জ্বলুক চোখের আগুন
ভালোবাসা মানে প্রতিরোধ
আর প্রতিরোধের নাম—
চব্বিশের ছত্রিশ জুলাই....।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশক আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম
সম্পাদক: মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী
ইমেইল: theweeklysimanthokantho@gmail.com,
সম্পাদকীয় কার্যালয়: জাবা কমপ্লেক্স (নীচতলা) বালিকা বিদ্যালয় রোড, ছাতক সুনামগঞ্জ।
মোবাইল : ০১৭১৬ ৯০০১৭৩, ০১৭১১০৩৯৭৮৮
Copyright © 2026 সীমান্ত কণ্ঠ. All rights reserved.