অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ মাস্টার আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। তিনি একাধারে প্রাজ্ঞ রাজনীতিক, সাবেক সংসদ সদস্য, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল শনিবার সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ওইদিন ছাতক-দোয়ারাবাজার অঞ্চলের মানুষ একজন প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক কে হারিয়েছেন।
গত ২০ এপ্রিল আব্দুল মজিদ মাস্টারের ৬ষ্ট মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ওইদিন প্রয়াত নেতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় সুনামগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা জাতীয়পার্টি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জের আলোকিত রাজনীতিক অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মাস্টার ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি ১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে তিনি ওই আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর একাধিকবার সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
১৯৮০ সালে শিক্ষকতার পেশায় মনোনিবেশ করে টানা ১০ বছর দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি অনুন্নত ও শিক্ষাবঞ্চিত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার এক প্রাণ পুরুষ।
পরে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার সময়ে দোয়ারবাজার উপজেলার পুরো রূপরেখা প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রথম বিদ্যুতায়নসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়েছিল।
তাঁর আমলে দোয়ারাবাজার কলেজ বর্তমানে দোয়ারাবাজার সরকারি কলেজ, দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা সদরে প্রথম বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ তার হাত ধরেই হয়েছিল। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলোর মুখ দেখে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে তিনি ছিলেন জেলাবাসীর কাছে স্বজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। ১৯৮৯ সালে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি আইন পেশায় জড়িত হন। তাঁর পেশায় তিনি এখনও সফল ব্যক্তি। মূলত আইন পেশা থেকে তিনি সুনামগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এক কর্মদক্ষ ব্যক্তি হিসেবে সুনামগঞ্জে সব মহলে সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে ৫ বছর তিনি সুনামগঞ্জ জজকোর্টের কৌঁসুলির (পিপি) দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘদিন তিনি জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জেলাজুড়ে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করেন।
২০০৯ সালে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বেগম মমতাজ ইকবালের মৃত্যুর পর তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া তিনি জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।
সম্পাদনা: মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী
মন্তব্য করুন