নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঢাকার রাজপথে যেসব সাহসী যুবক বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে, যাঁদের ঘামে, রক্তে ও অশ্রুজলে গণতন্ত্রের আন্দোলনের পথ তৈরি হয়েছে—তাঁদের একজন হলেন মহিউদ্দিন হৃদয়। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, প্রচার বিমুখ এক জীবন্ত ইতিহাস, একটি চলমান প্রতিরোধের নাম।
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়খাল গ্রামে জন্ম নেওয়া মহিউদ্দিন হৃদয়। তিনি মরহুম আব্দুল গফুর ও মা মনোয়ারা বেগম–এর সন্তান। কৈশোরে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে যুক্ত হন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে। ঢাকা মহানগর যুবদলের অগ্রণী এই নেতা ২০০৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি জাতীয় আন্দোলনে সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।

বর্তমানে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এর সহকারী হিসবে রয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ হয়েও থামেননি মহিউদ্দিন হৃদয়। তিনি ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে, ঢাকার বুকে যখন গর্জে উঠেছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান, তখন মহিউদ্দিন হৃদয় ছিলেন প্রথম সারির লড়াকুদের একজন। সেদিন তিনি গুলিবিদ্ধ হন—একটি প্রাণনাশী হামলার শিকার হন, যার ক্ষত এখনো শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। তবু লড়াই থামাননি।
মহিউদ্দিন হৃদয় বলেন, ‘বেঁচে আছি, এইটুকুই পরম পাওয়া। আমি যেদিন গুলিবিদ্ধ হই, ভেবেছিলাম—সব শেষ। কিন্তু না, আমি ফিরে এসেছি। ফিরে এসেছি আরও কঠিন লড়াইয়ের জন্য।’

জুলাই আন্দোলনের পূর্বে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় প্রেট্রোল বোমা বিস্ফোরণের মিথ্যা মামলায় তিনি তিনবার গুম, বহুবার গ্রেফতার, একবার গ্রেফতার হয়ে জেলজীবন সর্বোচ্চ আট মাস কেটেছে তাঁর।
একটা গণতন্ত্রবিরোধী শাসনব্যবস্থা কিভাবে একজন প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমন করতে চায়, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ মহিউদ্দিন হৃদয়। গত ১৭ বছরে তিনবার তাকে ‘গুম’ করা হয়, নিখোঁজ করে ফেলা হয়েছিল দিনের পর দিন। আবার ফিরেছেন, ফিরে এসে আবারও রাজপথে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি বহুবার গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে একের পর এক। আর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় তিনি ছিলেন টানা ৮ মাস জেল হাজতে। তবু নিজের বিশ্বাস, রাজনৈতিক আদর্শ এবং সংগ্রামের পথ থেকে একচুলও সরেননি।
রাজনীতি তাঁর কাছে দায়িত্ব, লড়াই তাঁর জীবনের মানে। রাজনীতি মহিউদ্দিন হৃদয়ের কাছে কোনো চেয়ারে বসার নাম নয়। তিনি বলেন—’আমি রাজনীতি করি মানুষকে বাঁচাতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমি যদি না থাকি, কেউ হয়তো সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে না। তাই যত বাধাই আসুক, আমি থামবো না।’
তিনি মনে করেন, রাজনীতি মানে রাজপথ। আন্দোলন মানে জীবন বাজি রেখে মানুষের অধিকার রক্ষা করা। এবং এটাই তাঁকে বানিয়েছে একজন প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা—যিনি গুলি খেয়েও হার মানেননি, কারাগার থেকে ফিরে এসেও ভয় পাননি, নিখোঁজ হয়েও ভেঙে পড়েননি।

মহিউদ্দিন হৃদয়ের মতো সংগ্রামী ব্যক্তিত্বদের জীবন আজকের যুবক জন্য এক অসীম অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, একজন সত্যিকারের রাজপথের সৈনিক গুলি, জেল, গুম—কোনোটাকেই ভয় পায় না। তার একটাই লক্ষ্য—স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
মহিউদ্দিন হৃদয় কোনো রাজনৈতিক কাগুজে নেতার নাম নয়। তিনি এক জীবন্ত প্রমাণ—প্রতিবাদ কখনো মুছে ফেলা যায় না, সত্যকে গুম করা যায় না, এবং একজন প্রকৃত যোদ্ধা কখনো হারে না।

তাঁকে নিয়ে লেখা হবে ইতিহাসের পাতায়, লড়াইয়ের ভাষ্যে, প্রতিবাদের কবিতায়। তিনি বেঁচে আছেন, আর তাঁর লড়াইও বেঁচে থাকবে—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
সম্পাদনা: মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী
মন্তব্য করুন