
সীমান্ত কণ্ঠ ডেস্ক:: সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনপিপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. আজিজুল হকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলীয় প্রতীক বরাদ্দের পর মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করার অংশ হিসেবে এ সভা আয়োজন করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের জোয়াইর গাঁও গ্রামে প্রার্থীর নিজ বাড়িতে এনপিপি নেতা আরশ আলীর সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আজিজুল হক বলেন, ‘এনপিপির দলীয় প্রতীক ‘আম’ আমি পেয়েছি। এর আগেও একবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে নির্বাচিত হলে আমি ছাতক–দোয়ারাবাজারবাসীর জন্য বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করবো। দীর্ঘদিন অবহেলিত দোয়ারাবাজার উপজেলাকে ছাতকের মতো শিল্পসমৃদ্ধ, কর্মসংস্থানভিত্তিক ও স্বনির্ভর উপজেলায় রূপান্তরিত করাই আমার অঙ্গীকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে ছোট দল–বড় দল কিংবা প্রতীকের চেয়েও বড় বিষয় হলো প্রার্থীর ক্লিন ইমেজ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। এ আসনে অতীতেও জনগণ দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন—এটাই প্রমাণ করে জনগণ সচেতন ও বিবেচক।’
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আজিজুল হক বলেন, ‘দেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিগত সরকারের আমলে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোটাধিকার হরণের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের অনেকেই আজ পলাতক বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু যারা সাধারণ মানুষ হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারা যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন—এ বিষয়টি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।’
তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ‘আইনের শাসন মানে প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো সাধারণ নাগরিককে মামলা, হামলা বা হয়রানির শিকার করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হবে। প্রশাসনকে অবশ্যই নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার পরিচয় দিতে হবে।’
সভায় বক্তারা ছাতক–দোয়ারাবাজার অঞ্চলের নদীভাঙন, শিল্পায়নের অভাব, বেকারত্ব, যোগাযোগ ও শিক্ষা–স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং এনপিপি প্রার্থী মো. আজিজুল হকের নেতৃত্বে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দুদুমিয়া, এনামুল হক, সাবির উদ্দিন, আমিনুর রহমান, দিলাল মিয়া, আব্দুল গণি, শফিকুর রহমান, চমক আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এনপিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন